প্রিয় প্রজন্ম || Priyo Projonmo

পরীমনির মামলা খারিজ হবে কবে

ফজলুল বারী

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ৬ জানুয়ারি ২০২২

পরীমনির মামলা খারিজ হবে কবে

পরীমনি কেমন শিল্পী অথবা নায়িকা সে সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই। কারন তার কোন ছবি দেখা হয়নি। আমরা ববিতা-কবরী-শাবানা-সুচরিতাদের সময়কার দর্শক। সালমান শাহ-মৌসুমী-শাবনুর এরা আমাদের সিনেমা হলে ফেরত নিয়েছিলেন। ঢাকার সিনেমার সেই স্বর্ণযুগও এখন নেই।

পরীমনির ঘটনাটা নজরে পড়ার কারন তিনি দেশের আইজিপির রোষানলে পড়েছেন। আইজিপি বেনজির আহমদ বোট ক্লাব নামের একটি এলিট ক্লাবের মালিক। অথবা শীর্ষ কর্মকর্তা হিসাবে সেটা চালান। সেখানে রুহু আফজা বিক্রি হয়না। বা সেখানে রুহু আফজা খেতে কেউ যাননা।

দেশের উঠতি এলিট, তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে মদ খেতে যান। ঢাকায় এখন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান! পরীমনিরাও সেখানে একরাতে মাতলামি করতে গিয়েছিলেন। বোটক্লাবের আরেক শরীক, আইজিপির বন্ধু জাতীয় পার্টির নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদও তখন সেখানে মাতাল অবস্থায় ছিলেন।

তাদের ক্লাবে পরীমনির মাতলামি সহ্য করেননি নাসির উদ্দিন মাহমুদ। পরীমনির গায়ে তিনি হাত তুলেছিলেন! মার খেয়ে মেঝেতে ছিটকে পড়েছিলেন নায়িকা! ওই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া-মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার প্রচারনার চাপে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়।

তখন তার বাড়ি থেকেও মদেরর বোতল উদ্ধার দেখানো হয়। বোট ক্লাব থেকে বহিষ্কারও করা হয় নাসির উদ্দিন মাহমুদকে! কিন্তু বন্ধুর অপমান বন্ধু বেশিক্ষন সহ্য করতে পারেননি! পরীমনি এর ঝাল বুঝতে পেরেছেন! এখনও টের পাচ্ছেন!

বাংলাদেশে এখন কাউকে গ্রেফতার করতে মদের বোতল উদ্ধারের নতুন এক স্টাইল শুরু হয়েছে! ওয়ান ইলেভেনের সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাড়ির ফ্রিজ থেকেও মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই মামলার খবর কি এরপর আর কেউ জানেন?

জাতীয় পার্টির একাংশের মালিক, ইত্তেফাকের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মাঝে কিছুদিন দেশের পরিবেশ মন্ত্রীও ছিলেন।

আমাদের শৈশবে শুনতাম পুলিশ কারো বিরুদ্ধে মামলা দেবার সময় সিকো ফাইভ ঘড়ি ছিনতাই’র মুখস্ত বর্ণনা লিখতো! সিকো ফাইভ ঘড়ি তখন আভিজাত্যের প্রতীক ছিলো। এখন কি আর কেউ সিকো ফাইভ ঘড়ির নাম জানেন? স্মার্ট ফোনের যুগে কয়জন মানুষ এখন আলাদা করে ঘড়ি কিনেন?

কুমিল্লার কচুয়ায় মহিউদ্দিন খান আলমগীর-এহসানুল হক মিলনের পাল্টাপাল্টিতে দোকানের ক্যাশবাক্স, ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইর মামলাও দেয়া হয়েছে! এরশাদ আমলে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ফুটপাতের চা দোকানির ক্যাশবাক্স ছিনতাইর মামলা দেয়া হতো!

মাঝে বাংলাদেশের পুলিশ মামলা দিতে পকেটে গাজার পুরিয়া পাবার কথা লিখতো। অথবা টাকায় না পোষালে পকেটে গাজার পুরিয়া পকেটে দিয়ে ফাঁসাতো কোন একজনকে! এরপর ফেনসিডিল গাজার গাজাখুরির জায়গা পায়। ফেনসিডিলও এখন সেকেলে! এখন ইয়াবা-আইস সহ নানাকিছু মামলার বিষয়।

আর এখন র‍্যাব যখন কাউকে আটক করার ওহি পায়, তখন মিডিয়াকে দেখায় বাড়ি থেকে মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে! যুবলীগের সম্রাটের বিরুদ্ধেও মাদক মামলা দেয়া হয়। কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে বরখাস্তকৃত করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার হোটেলকক্ষ থেকেও মদের বোতল উদ্ধারের মামলা দেয়া হয়েছে! হওয়ার কথা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, তা শেষ করা হলো মদের বোতল উদ্ধারে! বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবার মহড়া দিচ্ছে। উন্নত দেশের পুলিশ-র‍্যাব এদের এসব সাজানো বিষয় যে পাল্টানো দরকার।

যেখানে পুলিশের আইজি মদ বিক্রি-খাওয়ার সূবর্ণ সুযোগের লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠান চালান সেখানে লোকজনের বাড়িতে মদের বোতল উদ্ধারের নামে র‍্যাব-পুলিশ কী আইজি সাহেবকে টোকা মেরে দেখে? না এই ইস্যুতে লোকজন আইজি সাহেবকে জড়িয়ে গালিগালাজ করুক, এটা তারা চায়?

পরীমনির আগে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তখন জাপার নেতারা বলেছিলেন, আহা এমন সুফি একজন মানুষ নাসির! সে কিভাবে মদ খাবে আর নায়িকাকে ধর্ষন করতে যাবে!

নাসির উদ্দিন মাহমুদের মামলার খবর কী? না গায়েব! নিম্ন আদালতের বিচারকরা স্যারকে খুশি করতে তখন বারবার পরীমনিকে রিমান্ডে দিচ্ছিলেন! স্যার যদি কিছু মনে করেন এই ভয়ে অথবা লজ্জায় জামিন দিচ্ছিলেননা ! এরপর পান্না ভাই ম্যাজিকে মুক্তি পান পরীমনি।

সুপ্রিমকোর্টের মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী জেড আই খান পান্না কোর্টে দাঁড়ালে সেই বিচারকরা হাইকোর্টে এসে ভুল হয়ে গেছে আর করবোনা এই কান মলে দিলাম বলে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরীমনিকে তখন তারা জামিনও দেন। নায়িকার পক্ষে অনেক মানুষ দাঁড়ানোর কারন তিনি আক্রোশের শিকার হয়েছিলেন।

আমাদের সুপ্রিয় পান্না ভাইর মনে হয় আবার কোর্টে দাঁড়ানো দরকার। দেশে-ঢাকায় কারা কারা মদ বিক্রি করে তাদের তালিকা আনা হোক সর্বোচ্চ আদালতে। সিনেমার এক নায়িকাকে শায়েস্তা করার মামলা খারিজ যদি না হয় তাহলে মদ বিক্রেতাদেরও আনতে হবে আদালতে।

যে বিচারক পরীমনির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন তিনি কি বাংলাদেশে থাকেননা? কোনটা সাজানো কোনটা আসল মামলা তা যাদের বোঝার সাধারন জ্ঞানের অভাব তারা বিচারকের আসনে বসেন থাকেন কি করে?